নিজস্ব প্রতিনিধি :
ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এই সেতুকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভোলাবাসীর কাছে এটি একটি বহুল প্রত্যাশিত অবকাঠামো প্রকল্প।
তবে প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২০ সালে সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৯ হাজার ৯২২ কোটি টাকা।
বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের প্রস্তাবে একই সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা, যা পূর্ব নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। উল্লেখযোগ্যভাবে, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়—প্রকল্পের মূল নকশায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
এদিকে, অতীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিভিন্ন বড় অবকাঠামো প্রকল্প, বিশেষ করে পদ্মা সেতু নিয়ে ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান ব্যয় প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক চাপের কারণে প্রকল্প ব্যয় কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক। তবে স্বল্প সময়ে ব্যয়ের এমন উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক, তা নির্ভর করে বিস্তারিত অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও স্বচ্ছ তথ্য উপস্থাপনের ওপর।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ভোলা-বরিশাল সেতু বাস্তবায়ন সময়ের দাবি হলেও প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে যাবে, অন্যদিকে জনগণের আস্থাও বজায় থাকবে।

