Headlines

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২১ অধ্যাদেশ বহাল, ৩টি বাতিল করে সংসদে বিল পাশ 

ডেস্ক রিপোর্ট :

দেশের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২১টি অধ্যাদেশ অবিকল রেখে জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলোচিত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করে পৃথক রহিতকরণ বিলও পাস করা হয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে এ সংক্রান্ত বিলগুলো পাস হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সংসদে বিলগুলো উত্থাপন করেন এবং আলোচনা শেষে সেগুলো কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

পাস হওয়া ২১টি বিলের মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া, জ্বালানি, শ্রম, টেলিযোগাযোগ, অভিবাসন, স্থানীয় সরকারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খাত। উল্লেখযোগ্য কিছু বিল হলো:

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন)

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন)

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন)

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন)

বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন)

ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন)

জেলা পরিষদ ও পৌরসভা সংক্রান্ত সংশোধন

এসব বিল দেশের প্রশাসন, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোয় সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এগুলো হলো:

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৪

সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ এসব বাতিল করে নতুনভাবে আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই বিলগুলো আইনে পরিণত হলে দেশের বিভিন্ন খাতে নীতিগত পরিবর্তন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আইনি কাঠামোর পুনর্বিন্যাস ঘটতে পারে। বিশেষ করে শ্রম, অভিবাসন, জ্বালানি ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব বেশি পড়বে।

একসঙ্গে এতগুলো অধ্যাদেশ পাস ও বাতিলের ঘটনা দেশের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সবার নজর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের দিকে—যার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর রূপ পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *