কুয়াকাটায় ইয়াবাসহ শ্রমিকদল সহ সভাপতি আটক
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় মাদকবিরোধী অভিযানে এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন বিএনপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিকদলের এক নেতা।
ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক হয়েছেন কুয়াকাটা পৌর শ্রমিকদলের সহসভাপতি জাকির (৪৪), যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার রাতে প্রশাসনের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জাকিরের কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪২(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
একই অভিযানে আটক হয়েছেন দুলাল (৪০) নামের আরও এক ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
অভিযানটি পরিচালনা করেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক। তিনি বলেন,
“মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান একেবারে জিরো টলারেন্স। কুয়াকাটাকে একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে, কুয়াকাটা পৌর শ্রমিক দলের সিনিয়র সহসভাপতি জসিম মৃধাকে ঘিরেও রয়েছে নানা অভিযোগ। বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের কারণে তাকে ইতোমধ্যে দুই দফা শোকজ করেছে জেলা শ্রমিক দল। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ,
দখল বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম থেকে নিয়মিত ‘মাশোহারা’ নেন এই নেতা।
এসব কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
একদিকে ইয়াবাসহ শ্রমিকদল নেতার আটক, অন্যদিকে আরেক নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে কুয়াকাটায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়দের মতে,
রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধ বাড়ছে কি না
দলের ভেতরে জবাবদিহিতা কতটা কার্যকর
এসব বিষয় এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও, মাদক ও অনিয়ম রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও শুদ্ধি অভিযান জরুরি বলে মনে করছেন সচেতনমহল।

