Headlines

কোটি টাকার কেলেঙ্কারি: ঢাবি ছাত্রদল নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ছাত্ররাজনীতি। কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটক হয়েছেন হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মাহি চৌধুরী অর্ণব। ঘটনার পরপরই সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা—আজীবনের জন্য বহিষ্কার।

শনিবার (রাত সাড়ে ১০টা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মাহি চৌধুরী অর্ণবকে তার সকল সাংগঠনিক পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো।”

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অর্ণবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। হলের ভেতরে সিট বাণিজ্য, নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়সহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ঘুরে বেড়ালেও এতদিন তা প্রকাশ্যে আসেনি। সর্বশেষ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের পাশাপাশি ক্ষোভও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “উক্ত ব্যক্তির সাথে সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।”

বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্ররাজনীতিতে অর্থনৈতিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার নতুন নয়। কিন্তু বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

একজন প্রভাবশালী ছাত্রনেতার এমন পতন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো সংগঠন ও ছাত্ররাজনীতির ভাবমূর্তির ওপর বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়—এই ঘটনার পর বাস্তবিকই কোনো পরিবর্তন আসে কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *