আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিতর্কিত বক্তব্যকে ঘিরে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। বাংলাদেশি আলোচিত ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে একই কারণে ভিসা বাতিল করা হয় জনপ্রিয় বক্তা মিজানুর রহমান আজহারির।
জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় একটি ধর্মীয় সফরে অংশ নেওয়ার কথা ছিল শায়খ আহমাদুল্লাহর। তবে তার পূর্ববর্তী কিছু বক্তব্য—বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও ইহুদিবিরোধী মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক—নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তার ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে মিজানুর রহমান আজহারির ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। তার কিছু পুরোনো বক্তব্য অস্ট্রেলিয়ার নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হওয়ায় তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে “পালিয়ে যাওয়া” সংক্রান্ত যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা বিভ্রান্তিকর বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শায়খ আহমাদুল্লাহ ভিসা বাতিলের আগেই অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও উসকানিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ফলে বিদেশি বক্তাদের ক্ষেত্রেও কড়া যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেও, আবার অনেকে এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক সফরের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

