নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজধানীর বাজারে যেন নিত্যপণ্যের দামে অদৃশ্য আগুন জ্বলছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা—যা সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। ঈদুল ফিতরের আগেই শুরু হওয়া এই মূল্যবৃদ্ধির ধারা এখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল ১৮৫–১৯০ টাকার মধ্যে। একই সঙ্গে খোলা পাম তেলের দামও লিটারপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়ে পৌঁছেছে ১৮৪–১৮৫ টাকায়।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট, যার কারণে বেড়েছে পরিবহন খরচ। ফলে মিলগেট থেকে শুরু করে খুচরা বাজার—সবখানেই দামের ঊর্ধ্বগতি।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে কেন ২০–২৫ টাকা বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদারকির ঘাটতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাই এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ।
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের বাজারেও চলছে অদ্ভুত সংকট। প্রায় দেড় মাস ধরে ছোট বোতলের তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দোকানে গেলে মিলছে শুধু বড় ৫ লিটারের বোতল—যা কিনতে পারছেন না নিম্ন ও মধ্যবিত্তের অনেকেই। ফলে বাধ্য হয়ে তারা ঝুঁকছেন খোলা তেলের দিকে, যেখানে আবার দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে।
রাজধানীর তেজকুনীপাড়ার বাসিন্দা সেলিম মিয়ার মতো অনেকেই এখন পড়েছেন দ্বিমুখী সংকটে। তিনি বলেন,“আগে বোতলের তেল কিনতাম, এখন সেটা পাওয়া যায় না। খোলা তেল কিনতে গিয়ে দেখি দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
শুধু তেল নয়, একই সঙ্গে বাজারে বেড়েছে সবজির দামও। ফলে দৈনন্দিন খাবারের খরচ বেড়ে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের আয় স্থির থাকলেও ব্যয় বাড়ছে প্রতিনিয়ত—যা তৈরি করছে এক নীরব অর্থনৈতিক চাপ।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব থাকলেও অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, নজরদারির অভাব এবং সরবরাহ চেইনের অস্বচ্ছতাই এই সংকটকে আরও গভীর করছে।
সার্বিকভাবে, বাজারে এখন “দামের দৌড়”—আর সেই দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই চাপ আরও বাড়বে—আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষরাই।

