Headlines

কক্সবাজারে হামের ভয়াবহ রূপ: প্রাণ গেল ৩ শিশুর, হাসপাতালে লড়াই করছে আরও ৪৭ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ছোঁয়াচে রোগ হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জেলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে। বর্তমানে জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালে ৪৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন থাকলেও আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মৃতের তালিকায় ৯ মাসের শিশু: সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ‘ডেডিকেটেড হাম ইউনিটে’ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ৯ মাস বয়সী জেসিনের। সে মহেশখালী উপজেলার নাসির উদ্দিনের কন্যা। এর ঠিক একদিন আগেই একই উপজেলার ৭ মাস বয়সী হিরা মনি নামের আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। হাসপাতাল সূত্র আরও এক শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, মৃত শিশুরা হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল।

হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা: রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে হামের প্রকোপ শুরু হলেও বর্তমানে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

হাসপাতালগুলোর বর্তমান চিত্র:
• কক্সবাজার সদর হাসপাতাল: ৪২ জন শিশু ভর্তি।
• কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতাল: ৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন।
• উপজেলা পর্যায়: মহেশখালী, রামু ও চকরিয়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও বাড়ছে রোগীর চাপ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাম রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড এবং আলাদা নার্সিং ব্যবস্থা চালু করলেও রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও স্বাস্থ্য বিভাগের পদক্ষেপ: ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে রয়েছে: মহেশখালী, হোয়াইক্যং, মিঠাছড়ি (রামু), কালুরদোকান, পাহাড়তলি ও রুমালিয়ারছড়া।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, “জেলায় ৯৫ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় থাকলেও কিছু এলাকায় সচেতনতার অভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমাদের কাছে টিকার পর্যাপ্ত মজুদ আছে এবং ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে।”

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ: চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের জ্বর ও গায়ে র‍্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের দ্রুত টিকাদান কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *