নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | ৩ মার্চ, ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের দুর্গম এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই আট বছরের শিশুটি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মেনেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চমেক হাসপাতালে কর্মরত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দীন তালুকদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানান, শিশুটির গলায় মোট দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। সোমবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OCC) থেকে পুনরায় নাক, কান ও গলা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত ভোরের দিকে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির চাচা মোহাম্মদ আজিজ জানান, রাতে সে ইশারায় কথা বলছিল। রাত আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে তার অস্বস্তি বাড়তে থাকে। সে বারবার পানি ও খাবার চাইছিল, কিন্তু চিকিৎসকদের নিষেধ থাকায় তাকে কিছুই দেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। চমেক পরিচালক জানান, ধর্ষণের আলামত নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গত সোমবার সকালে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ইকোপার্কের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিশুটিকে রক্তাক্ত ও গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কের সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চমেকে ভর্তি করা হয়।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। যেহেতু শিশুটি মারা গেছে, তাই এটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। অপরাধীকে শনাক্ত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
