তেহরান, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে আজ শনিবার ভোরে ইরানজুড়ে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে “মেজর কমব্যাট অপারেশন” বা বড় ধরনের সামরিক অভিযান হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কোম (Qom), ইসফাহান (Isfahan) এবং তাবরিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের আশেপাশে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও সূত্রমতে তাকে আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযানে সামরিক অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটিতে “সরকার পরিবর্তন” নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলাকে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় এবং “প্রতিরোধমূলক” পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইরান এই হামলার পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর ফলে তেল আবিব ও জেরুজালেমে সাইরেন বেজে ওঠে এবং ইসরায়েলের উত্তরের কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির আশেপাশেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রাশিয়া এই হামলাকে “অপ্ররোচিত আগ্রাসন” বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং জাতিসংঘ বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

