নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে সাবেক ক্রিড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিয়ে বর্তমানে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দায়িত্ব পালনের স্বল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকজন প্রভাবশালী ছাত্র প্রতিনিধি ও উপদেষ্টা বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ পথে বিদেশে পাচার করেছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, ত্রাণ তহবিল এবং উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ থেকে বড় অঙ্কের টাকা সরিয়ে তা হুন্ডি ও অন্যান্য অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। বিশেষ করে উপদেষ্টাদের পরিবারের সদস্যদের বিদেশে হঠাৎ ব্যয়বহুল জীবনযাপন এবং স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের বিষয়টি এই সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এই টাকা পাচারের বিষয়টা এখন ওপেন সিক্রেট কিন্তু কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না
এই বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে যদি দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া যায়, তবে তা অবশ্যই তদন্ত করা উচিত। তবে অভিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, একটি বিশেষ চক্র বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেও জানানো হয়েছে যে, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দোষীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

