নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে না হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে আগুন লেগেছে। ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ফল কিনতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে তরমুজ, আপেল, মাল্টা ও কলার দাম এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
এক সময় পিস হিসেবে বিক্রি হলেও এখন রাজধানীর প্রায় সব বাজারেই তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজের দাম মানভেদে ৭০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। একটি মাঝারি আকারের তরমুজ কিনতেই ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। ক্রেতাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট করে তরমুজের পিস প্রথা তুলে দিয়ে ওজনে বিক্রি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
আমদানি করা ফলের দামও গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, জাতভেদে প্রতি কেজি আপেল ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মাল্টা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি আঙুরও মানভেদে কেজিপ্রতি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে।
শুধু আমদানিকৃত ফল নয়, দেশি ফলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এক ডজন সাগর কলা এখন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, যা রমজানের আগে ১০০ টাকার নিচে ছিল। এছাড়া পেঁপে, পেয়ারা এবং বরইয়ের দামও গত সপ্তাহের তুলনায় ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কারওয়ান বাজারে ফল কিনতে আসা একজন বেসরকারি চাকুরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইফতারে একটু ফল না হলে চলে না, কিন্তু যে দাম তাতে এখন শুধু কলা ছাড়া অন্য কিছু কেনা বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরমুজ তো এখন সোনার হরিণ।”
অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারেই তাদের চড়া দামে ফল কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং রমজানে বাড়তি চাহিদাকে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন তারা। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর তদারকি না থাকলে রমজানের বাকি দিনগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নিয়মিত বাজার অভিযানের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট রোধ করে ফলের দাম দ্রুত কমিয়ে আনা হবে।

