তাহলে কি পিতার পথেই পুত্র? ৭৫ -৮১ এবং ২৪ থেকে ভবিষ্যৎ –

প্রবীর কুমার সরকার (রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট)
 
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি কঠিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারের সকলকে – হত্যায় জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে সামরিক সমর্থন ও রাজনৈতিক সহযোগিতা যা পরবর্তীতে এটাই প্রমাণ করে তিনি সরাসরি সুবিধাভোগী ছিলেন, তিনি  বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যাকান্ডে যুক্ত হত্যাকারীদের দেশ থেকে নিরাপদে প্রস্থান, আর্থিক, প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে পুরস্কৃত করেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ান । বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ রাখা—এই সিদ্ধান্তগুলো ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
এই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে এক ভয়ংকর রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম দেয়। ইতিহাস যেন এক নির্মম প্রতিশোধ নেয়—জেনারেল জিয়ার আমলে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদেরকে বিভিন্নভাবে অপসারিত করা, সেনাবাহিনীতে পাকপন্থীদের উত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা বহু অফিসারদের বিচারের নামে হত্যা তারই পুঞ্জিভূত ক্ষোভ জেনারেল জিয়া হত্যাকাণ্ডে প্রেক্ষাপট তৈরি করে পাশাপাশি জেনারেল জিয়া হত্যাকান্ডে যুক্তদের বঙ্গবন্ধু হত্যার পুরস্কারপ্রাপ্তদের দেখেও অনেকটা উৎসাহিত করে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, যে সামরিক গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সহযোগিতায় জেনারেল জিয়া লাভবান হয়েছিলেন সেই ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর হাতেই শেষ পর্যন্ত জেনারেল জিয়া নিজেও নিহত হন, যদি তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের আশ্রয় বা প্রশ্রয় না দিতেন, বরং ন্যায়বিচারের পথে হাঁটতেন তাহলে হয়তো তাকে জীবন দিতে হতো না—এই যুক্তি বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কাছেই গ্রহণযোগ্য। এখানে আবার জেনারেল জিয়া হত্যা পরবর্তীতে সবচেয়ে সুবিধাভোগী জেনারেল এরশাদ সুবিধা নেওয়া পর্যন্ত জেনারেল জিয়ার পথে হাটলেও হত্যা কার্য সমাধা হওয়া মাত্রই জেনারেল জিয়া মডেলের বিপরীতে হাটেন।
জেনারেল এরশাদ ক্ষমতার দাবিদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত হত্যা করেন এবং বিচারের নামে দমন করেন, যদিও এরশাদের সেই বিচারিক প্রক্রিয়া আজ পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ কিন্তু এ কথা সত্য জেনারেল জিয়ার মতো জেনারেল এরশাদ হত্যাকারীদের শেষ বিন্দুটিও অক্ষত রাখেননি পাশাপাশি এরশাদও এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার ভুয়া অপরাধে বহু মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারদের  বিচার করেছিলেন তার ক্ষমতাকে সুসংহত করার জন্যই , যদিও বলা হয় বিচার হয়েছিল, কিন্তু ন্যায়বিচার কতটা হয়েছিল—তা নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। জেনারেল জিয়া হত্যার আরেকজন সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী তার সহধর্মিণী বেগম জিয়া ২ বার রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে কখনোই  জেনারেল জিয়া হত্যার বিচার দাবি বা করার আগ্রহ দেখাননি! যেমনটা বঙ্গবন্ধু কন্যা ৭৫ এর ১৫ ই আগষ্টের বিচার ২১ বছর পরে সম্পন্ন করে তা অনেকাংশেই কার্যকর করেছিলেন। এক্ষেত্রে বেগম জিয়া অবশ্য জেনারেল এরশাদ এর নিকট থেকে ১ টাকার বিনিময়ে গুলশানের বাড়ি এবং মইনুল রোডের বিলাসবহুল বাড়ি ইজারা পেয়েছিলেন।
জেনারেল এরশাদ জেনারেল জিয়া হত্যাকাণ্ডের সরাসরি রাজনৈতিক সুবিধা নেন, আবার একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিজের জন্য ঝুঁকি হতে পারে—এমন ব্যক্তিদেরও ছেঁটে ফেলেন। ফলাফল হিসেবে, সব বিতর্ক ও স্বৈরশাসনের পরও এরশাদ শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। যা ইতিহাসের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কনট্রাস্ট।
 
ঐতিহাসিক সাদৃশ্য : বিএনপি ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
 
২৪ এর ক্ষমতা দখলের পর দখলদার ইউনুস নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ- এর কার্যক্রম  স্থগিত করে। ২৬ এর ছলাকলার একপাক্ষিক নির্বাচনে বি এন পি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রসঙ্গটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী ইউনুসের নির্বাহী আদেশ—সংসদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যদি বিল  আকারে পাস না হয়, তাহলে সেই নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
এই জায়গায় বিএনপি, বিশেষ করে তারেক রহমান- কি করবে? অনেকেই হয়তো তারেক জিয়ার বিষয়ে উচ্চকিত, তারা হয়তো ভাবছে বাংলাদেশের রাজনীতির ভারসাম্য ঠিক রাখতে আওয়ামী লীগ কে স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরতে তারেক জিয়া রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দিবে কিন্তু তাদের উদ্দেশ্যে সবিনয়ে তারেক জিয়ার অদূর অতীতের কিছু কার্যক্রম বা ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগকে ফাঁদে ফেলতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ গুলো কি হতে পারে তার অনুমান গুলো ভাববেন তাহলেই আশাকরি উচ্চকিত ধারণাকারি ভ্রাতা-ভগিনীদের সম্বিত ফিরবে বা সে কি করতে পারে তার ধারনা পাওয়া যাবে। ধানমন্ডি ৩২  বঙ্গবন্ধু ভবন ভাঙ্গার প্রকাশিত অপশক্তিদের সম্পর্কে আমরা সবাই জানি কিন্তু পেছনের অপশক্তিটি কে তা কি জানি? এখানে প্রতিশোধ হিসেবে পিতা হত্যার ভেট স্বরুপ চাচার দেওয়া মইনুল রোডের বাড়ি হারানোর শোক নাকি কাজ করেছিলো, আমি বলি না দুষ্টু লোকেরা বলে, আর তারেক জিয়ার সূদুর অতীত ভুলে গেলেন? বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারতের নাটক করে ২১ আগষ্টে গ্রেনেড মেরে শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যাকেই হত্যা করতে চায়নি পুরো আওয়ামী লীগকেই উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলো!! যদিও  বিশ্বমোড়লদের বশংবদ ও আমাদের অহংকার সেনাপ্রধান মাননীয় ওয়াকারুজ্জামান এর কল্যানে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ইউনুসের আমলে প্রমাণ হয়েছে ২১ আগষ্টে গ্রেনেড হামলা হয়নি, বজ্রপাত হয়েছিল! তাই তারেক জিয়া নিষ্কলুষ!!! আর ভবিষ্যতে সে কি করতে পারে?  ২৪ এর তথাকথিত মেটিক্যুলাস মামলার পাশাপাশি প্রথমেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে বি ডি আর হত্যাকান্ডের সাথে যুক্ত করার আয়োজন নবরুপে সাজানো হবে যার আলামত ইতিমধ্যেই প্রকাশ্য হচ্ছে, ওরা জানে আওয়ামী লীগের প্রাণ ভোমরা কে কৌটাবন্দি করতে পারলেই খেল খতম! ও হ্যা, ইতিমধ্যেই বর্তমান ক্ষমতার মহামহিমরা ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টেরিম আমলের ঢালাও মামলা পুনঃবিবেচনা পূর্বক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আর তার মানে আরেক পষলা মামলা বানিজ্যের রাস্তা খোলা! হাজার হাজার কোটি টাকার খেলা! পরিনাম তৃনমুল তিতিবিরক্ত হয়ে পালে পালে দল ছাড়বে এবং বি এন পিতে ৩য় সারির কর্মী হতে লাইন দিবে! আর তারেক জিয়া বিশ্ব মিডিয়ায় নিজেকে উদার হিসেবে উপস্থাপন করে সাক্ষাতকার দেওয়া অমোঘ বানী “আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর পুত্র বা কন্যা রাজনীতি করতে চাইলে এবং জনগণ যদি মেনে নেয় তাহলে আমার কিছু বলার থাকবে না” সেটার কি হবে? সে জানে তাদের রাজনীতির মঞ্চে “মা” ছাড়া কিভাবে দলের ভেতর বস্তাবন্দি করতে হবে। হ্যা এটা ঠিক জাতীয় নির্বাচনের মতোই আগামীর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বৈতরনী পার হতে সামনে তাদের বশংবদ মিডিয়া দ্বারা ন্যারেটিভ দাড় করানো হবে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে বা যাবে, তবে……….এই হচ্ছে তারেক পারিষদদের প্ল্যান।  
” তোমারে বধিবে যে, নীরবে বাড়িছে সে ” আওয়ামী লীগকে আটকানোর এই যে এতো এতো আয়োজন তাতেও কি রক্ষা হবে? যদি তিনি তার পিতার পথ অনুসরণ করে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে অপাঙ্কতেয় করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হন এবং শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগকে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নামে দমন ও প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন— এতে অবশ্যই জামায়াতে ইসলামী-র সমর্থনও তাদের পক্ষে সাময়িকভাবে যুক্ত হবে—যা হয়তো বি এন পির স্বল্পমেয়াদে লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ, অনেকটা জিয়ার অপমৃত্যুর মতো বি এন পির রাজনৈতিক মৃত্যু, পরিনাম জঙ্গি-মব-জামাতের পাকাপোক্ত অবস্থান যা রাস্ট্রের  জন্য অশনিসংকেত ।
ধরে নেই সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে ৩০ দিবসের মধ্যে ইউনুস জামানার ১১৬ টি অধ্যাদেশ (প্রায় সব গুলোই দেশ বিরোধী) অবৈধ নির্বাহী আদেশে  আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরন সহ যা বিল আকারে এনে গরিষ্ঠতার জোরে এবং জামাত ও তাদের বশংবদদের সমর্থনে সর্বসম্মতিক্রমে আইনে পরিণত করা হলো তবে দায়ভার সেই অতীতের মতো একক ভাবে বি এন পির ওপরই কিন্তু বর্তাবে। এখানে বলা ভালো ২০০১ এর জামাত এবং বিএনপি’র অবৈধ সঙ্গমে যে ভয়াবহ দূঃশাসন নেমে আসে তা কিন্তু এককভাবে খেসারত দিতে হয় বিএনপিকেই। বাংলা ভাই সহ জঙ্গি উত্থান, সারাদেশে আওয়ামী লীগের  নেতাকর্মীদের হত্যা, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদিদের প্রশ্রয়,  বিদেশী কূটনীতিক এর হত্যা চেষ্টা, উন্নয়ন থমকে যাওয়া, লোডশেডিং, সার সংকট, বিরুদ্ধ মতকে দমন, সকল বাঙালি সংস্কৃতিকে ধ্বংসের আয়োজন করা সবই ছিল জামাত-বিএনপি’র যৌথ প্রযোজনায় কিন্তু ওয়ান ইলেভেনে সবচেয়ে বেশি খেসারত দিতে হয় বিএনপি কে আর তথাকথিত ভারসাম্য বজায় এর জন্য আওয়ামী লীগকে যা ছিল বিরাজনীতিকরনের প্রয়াস, সেখানে সকল ধরনের অপরাধ করার পরও জোট সরকারের অন্যতম মুল হোতা জামাত থেকে যায় ধরাছোয়ার বাহিরে অথচ বিএনপি- জামাত জোট সরকারের সকল অপকর্মের অন্যতম  স্টেকহোল্ডার ছিল এই জামাত, যখন দুর্নীতি অপশাসন এবং  কমিশন বানিজ্যের অপরাধের জন্য তারেক জিয়ার কোমর ভাঙ্গা হয় বা প্রায় সকল শীর্ষ নেতাদের জেলে নেওয়া হয় তখন জামাতের সকল স্তরের নেতাদের মুখ থেকে শোনা যায় তারেক জিয়া সহ বিএনপি’র অপকর্মের দায় জামাত নিবে না কারণ  জামাতের কোন লোক অপকর্মে যুক্ত ছিল না!!! একেই বলে নিয়তির খেলা, জনসমর্থনহীন ও একাত্তরের গণহত্যার দায়ে প্রমানিত শক্তি হিসেবে জামাত প্রতিষ্ঠিত সেই দুর্গন্ধময় শক্তিকে বি এন পি শুধু রাজনৈতিক জীবনই দেয়নি, এই জামাতি শক্তি বিএনপিকে ব্যবহার করে ক্ষুদ্র বীজ থেকে আস্তে আস্তে মহীরুহে পরিণত হতে থাকে বিএনপি’রই ছত্রছায়ায়, তাদের আশকারাতেই সকল সেক্টরে বিশেষ করে অর্থনৈতিক সেক্টর, স্বাস্থ্য সেক্টর, শিক্ষা সেক্টর, সংবাদ মাধ্যম, বিচারাঙ্গন সহ সকল জায়গা কব্জা করে ফেলে অতি নীরবে অথচ সেই বি এন পি বিপদে পড়ার সাথে সাথে জামাত পল্টি নিয়ে ফেলে!!! সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো বিএনপির সংগঠনের ভেতর কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত  জামাতি ভাবধারার মানুষদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করে অত্যন্ত সংগোপনে !!! পাশাপাশি ২০০১-২০০৬  পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের সময় সকল অপকর্মে পেছন থেকে জামাত বি এন পি কে দিয়ে করিয়ে নেয় অতি চতুরতার সাথে আর সাধারণ মানুষের মন বিষিয়ে তুলতে কাজ করে বিএনপি’র বিরুদ্ধে । এরপর ২৪ এর ক্ষমতা দখলে জামায়াত প্লট তৈরি করে এবং বিএনপি পেছন থেকে সর্বশক্তি বিনিয়োগ করে সবশেষ এই সম্মিলিত ডানপন্থী অপশক্তিগুলো ও মাননীয় ওয়াকারুজ্জামান এর অবৈধ সঙ্গমের ভূমিষ্ঠ সন্তান হিসেবে আবর্তিত হয় ” ইউনূসের ক্ষমতা দখল “। নিয়তির খেলা ইউনুস ক্ষমতায় এসে কিন্তু যতটা না বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে তারচেয়ে  সর্বাংশে জামাতি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। হ্যাঁ, ইউনুস বি এন পিকে আনুকুল্য দিয়েছে, সেটা হলো তাদের  তৃণমূলকে অবাধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা, চাঁদাবাজি, বাড়ি দখল, মামলা বানিজ্য এগুলোর অবাধ স্বাধীনতা। যে সকল কর্মকাণ্ডে সরাসরি বি এন পির রাজনৈতিক অপমৃত্যু নিশ্চিত হবে, দল নিয়ন্ত্রণহীন থাকবে আর সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের ইমেজ তলানীতে যাবে আর আওয়ামী লীগের রুদ্ররোষে পরবে যেমনটা ২০০১-২০০৬ এর কারণে খেসারত দিতে হয়েছিল ১৬ বছর !! আর ইউনুস জামাতি শক্তিকে ফেভার দিয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি, প্রশাসনিক,  সামরিক শক্তি, বিচার, মিডিয়া, কূটনৈতিক অঙ্গন, শিক্ষাঙ্গন, মাঠ প্রশাসন সহ যে সকল জায়গায় স্বল্প মেয়াদে এবং দীর্ঘ মেয়াদে লাভবান হওয়া যায়। এই ১৮ মাসের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে জামাত ছিল  বি এন পির নিকট মাকড়সা ছানার মতো, যে কিনা নিজের মাকেই খেয়ে ফেলে একটা সময়। ২০২৬ এর ১২ই ফেব্রুয়ারীর এই বিতর্কিত ও একপাক্ষিক নির্বাচনেও বিএনপিকে একতরফা ভাবে খেলতে গিয়ে যথেষ্ট নাকানি চুবানি খেতে হয়েছে জামাতের কাছে যদি না শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, সংখ্যালঘু, প্রগতিশীল ভোট বিএনপির বাক্সে পড়তো তাহলে নিশ্চিতভাবে বিএনপি’র রাজনৈতিক অপমৃত্যু এখানেই ঘটতো। বলে রাখা ভালো আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক ভাবে  বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের রাজনীতির সুস্থ ধারার দরজা খুলে রেখেছে । আওয়ামী লীগ জানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি হলেও দেশের প্রতিপক্ষ জামাত সহ এই উগ্রবাদী শক্তি কিন্তু বিএনপি এই সত্যটা মানে কি না সেটাই দেখার।      
—আজ বি এন পি যদি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার অস্ত্র কৌশল হিসেবে নেয় তাহলে একসময় সেই অস্ত্রই তার বিরুদ্ধে ফিরে আসবে নিশ্চিতরুপে। জামায়াত এই সুযোগটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কাজে লাগাবে বি এন পির বিরুদ্ধেই —যা ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে বিএনপির জন্যই, যদি আরো স্পষ্ট করে বলি তারেক জিয়ার জন্য, মনে আছে ২০০৪ এর ২১ আগষ্ট বজ্রপাতে ২৩ জনের মৃত্যুর কথা? হাজারো স্পীন্টারবিদ্ধ মানুষের কথা? ওয়াকার-ইউনুসের বদৌলতে আপাততঃ নিস্কলুষ হলেও এই বজ্রপাত যে তারেক জিয়ার কল্যানে হয়েছে তা কিন্তু দিবালোকের মতো সত্য ও প্রমানিত। প্রকৃতি ছাড় দেয় ছেড়ে কিন্তু দেয়না “সাধু সাবধান “। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি ২ টি ধারায় বিভক্ত থেকেছে ১. আওয়ামী লীগ ২. এন্টি আওয়ামী লীগ, এই এন্টি আওয়ামী লীগ শিবির কখনো নেতৃত্ব দিয়েছে জাসদ কখনো জাতীয় পার্টি আবার কখনো বা বি এন পি।
মুলতো জামাত যতটা না আওয়ামী লীগ কে ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখে তারচেয়ে বেশি নিরাপদ মনে করে  এন্টি আওয়ামী লীগ শিবিরের নেতৃত্ব দেয়ার আর বি এন পি যদি সেই সুযোগ দেয় তাহলে ভুলের খেসারত দিতে হবে পুরো জাতিকে, তাও দীর্ঘ মেয়াদে।
জামাতি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য যারা আওয়ামী লীগকে বারবার কুমন্ত্রনা দিয়েছে বি এন পি প্রতিপক্ষ  নয় শত্রু আর হয়তো এই চক্রই মাদ্রাসা ছাত্রদের মুলধারায় ফেরানোর নাম করে গ্রেস দিয়ে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দিয়ে জামাতের পথ মসৃন করেছিল, অতিআনুগত্যের ছদ্মাবরনে সুকৌশলে সকল জায়গায় জামাতি প্রোডাক্টদের প্রতিষ্ঠা করেছিল , নিশ্চয়ই তেমনি তাদের কাউন্টার পার্ট তারেক জিয়া বা বি এন পিকেও বারবার বলছে,  যেহেতু অতিসখ্যতাও পুড়ানো “তোমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নয় ও তোমার শত্রু”! এই সুযোগ ধ্বংস করো। তারপরও বলবো আমার মতো কোটি অবোধের আশংকার মুখে ছাই দিয়ে তারেক জিয়া যদি সঠিক ও বিচক্ষন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে ভালো। আওয়ামী লীগকে শত্রু না ভেবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভাবে, যেখানে অতীত নয় ভবিষ্যত বাংলাদেশ বিনির্মানে চর্চা হবে সুস্থ ধারার প্রতিযোগীতা, যেখানে বাংলাদেশের মধ্যপন্থিদের নেতৃত্ব দিবে আওয়ামীলীগ আর ডানপন্থিদের নেতৃত্ব দিবে বি এন পি।
পরাজিত হবে জামাত সহ উগ্র ডানপন্থীরা, জিতবে বাংলাদেশ।
তারেক জিয়ার সামনে দুটি পথ খোলা—
পিতার ভুলে ভরা পদাঙ্ক নাকি উত্তরসূরীর সম্ভাবনাময় আগামী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *