Headlines

মিডিয়ার আলোয় ওজিল, আড়ালে বিলাল এরদোয়ান ঢাকায় কার সঙ্গে কী আলোচনা?

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বিশ্বকাপজয়ী জার্মান-তুর্কি ফুটবলার মেসুত ওজিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। বুধবার দিনভর তিনি রাজধানীর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন, যার মধ্যে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
তবে তার এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কারণ, সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান-এর পুত্র বিলাল এরদোয়ান।
সময়টা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। নতুন সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান। শপথ গ্রহণের ঠিক পরদিনই ওজিলের এই সফর—এটিকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
এদিকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতা হারায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেই প্রেক্ষাপটে তুরস্কের ভূমিকাকে ঘিরেও অতীতে নানা আলোচনা ছিল, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃত তথ্য নেই।
ওজিল ও তুরস্কের রাজনৈতিক সংযোগ
ওজিল অতীতে এরদোয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে আন্তর্জাতিক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ২০১৮ সালে এরদোয়ানের সঙ্গে তার ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে জার্মানিতে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে তিনি বর্ণবাদের অভিযোগ তুলেছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওজিল কেবল একজন সাবেক ফুটবলার নন; মুসলিম বিশ্বে তার জনপ্রিয়তা তুরস্কের ‘সফট ডিপ্লোমেসি’ কৌশলের অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
কী বলছে রাজনৈতিক মহল?
অফ দ্য রেকর্ড আলোচনায় কিছু বিশ্লেষক বলছেন—
ওজিলকে সামনে রেখে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও মূল গুরুত্ব ছিল বিলাল এরদোয়ানের উপস্থিতি।
তবে কোনো গোপন বৈঠক বা আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বৈঠকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো জল্পনা-কল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ সেই কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে বলেও ধারণা করা হয়।
মেসুত ওজিলের সফর আপাতদৃষ্টিতে একটি ক্রীড়া ও সৌজন্য সফর হলেও সময়কাল ও সফরসঙ্গীর কারণে এটি রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রমাণ ছাড়া সফরটিকে নিশ্চিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেই বিশ্লেষকরা পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *