Headlines

অভিনন্দন নাকি নতুন সরকারের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ? চিঠিতেই ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

​বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের একটি অভিনন্দন পত্রকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিনন্দন বার্তার আড়ালে এই চিঠিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও সামরিক স্বার্থ আদায়ের একটি প্রচ্ছন্ন চাপ বা ‘কঠোর প্রত্যাশা’ ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

​প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চিঠিতে নির্বাচনের জয়ের অভিনন্দন জানানোর পরপরই সরাসরি ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ (Agreement on Reciprocal Trade) বাস্তবায়নের প্রসঙ্গটি সামনে এনেছেন। তিনি লিখেছেন, এই চুক্তি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী যেন তাকে সহায়তা করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, “সহায়তা” চাওয়া হলেও ট্রাম্পের সোজাসাপ্টা ভাষায় এটি একটি স্পষ্ট বাণিজ্যিক এজেন্ডা, যা মার্কিন কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় তার অনড় অবস্থানকেই প্রকাশ করে।

​চিঠির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি ছিল প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করার তাগিদ। ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “আপনি সেই রুটিন প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো সম্পন্ন করতে নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে মার্কিন প্রযুক্তির সরঞ্জাম (যেমন: অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা) কেনার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেখতে চায়। কূটনৈতিক ভাষায় “নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপ” (decisive steps) শব্দগুচ্ছটি সাধারণত বন্ধুসুলভ অনুরোধের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং কোনো ঝুলে থাকা সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করার চাপ হিসেবে দেখা হয়।

​চিঠিতে ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল’ গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে ওয়াশিংটন মূলত বাংলাদেশকে তাদের কৌশলগত বলয়ে থাকার সংকেত দিয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে বাংলাদেশে তাদের প্রভাব ধরে রাখতে এবং সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী, তা এই চিঠিতে পরিষ্কার।

​আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চিঠিটি প্রথাগত কূটনৈতিক বার্তার চেয়ে বেশি ‘ব্যবসায়িক’ ও ‘কৌশলগত’। এতে একদিকে যেমন নতুন সরকারের প্রতি সমর্থনের আশ্বাস রয়েছে, তেমনি অন্যদিকে নিজেদের শর্ত পূরণ না হলে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি প্রচ্ছন্ন বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

​বক্তব্য শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ওপর তার পূর্ণ আস্থার কথা জানিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী দিনগুলোতে এই চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *