ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা
২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত কথিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও রয়েছে অনিশ্চয়তা ও প্রশ্ন। নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ মামলা দায়ের হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্নঃ
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে কয়েক শতাধিক পুলিশ সদস্য নিহত হন। এর মধ্যে ২৫ জন মারা যান ৫ আগস্ট, ১৫ জন ৪ আগস্ট।
সবচেয়ে বেশি ১৫ জন সদস্য নিহত হন এনায়েতপুর থানা-এ। সেখানে ওসি আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে হত্যা ও লাশ বিকৃত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
যাত্রাবাড়ি: মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেইঃ
৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানা-এ হামলায় চার পুলিশ সদস্য নিহত হন। কনস্টেবল আব্দুল মজিদকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় আগুন দেওয়া হয়। তার স্ত্রী শাহজাদী বেগম ২৩ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। কিন্তু এখনো তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তান নিয়ে নীলফামারীতে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন শাহজাদী বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, “আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। সরকার বা পুলিশের কেউ সান্ত্বনা দিতেও আসেনি।” তার দাবি, স্বামীর অবশিষ্ট চাকরির সময় পর্যন্ত বেতন-রেশন এবং পরিবারের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হোক।
সোনাইমুড়ীতে গ্রেপ্তার, বিতর্কওঃ
অন্যদিকে সোনাইমুড়ী থানা-এ হামলা ও এক কনস্টেবল হত্যার ঘটনায় সম্প্রতি তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ তবে অন্তবরতিকালিন । তাদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ গ্রেপ্তার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার জানান, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের সূত্র ধরে তদন্তে অগ্রগতি হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে হামলা ও হত্যায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
স্বজনদের ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তাঃ
নিহত ওসি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারও অভিযোগ করেছে, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি কেউ তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেনি।
সামগ্রিকভাবে ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হলেও কতগুলো মামলায় অগ্রগতি হয়েছে বা মোট কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ সদর দপ্তর।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন প্রত্যাশাঃ
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পর নিহত পুলিশ সদস্যদের স্বজনরা নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন। তাদের প্রশ্ন পুলিশ হত্যা ও থানায় হামলার ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচার কি নিশ্চিত হবে? নাকি মামলাগুলো অজ্ঞাত আসামির তালিকায় ঝুলেই থাকবে?
জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতার বিষয়ে নানা প্রতিবেদন ও সহায়তার ঘোষণা থাকলেও পুলিশ সদস্যদের পরিবারগুলো বলছে, তারা অবহেলিত। ফলে এখন মূল প্রশ্ন আইনের শাসনের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
নিহতদের স্বজনদের একটাই প্রত্যাশা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে উঠে যেন হত্যাকাণ্ডগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হয়।

