নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতির মধ্যেই সামনে এসেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার বিনিয়োগ চিত্র। অর্থনীতিবিদদের মতে, ১৯৮১ সালের পর এ সময়েই বিনিয়োগ খাত সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় পৌঁছায় যা সরকারের নীতিগত ব্যর্থতারই প্রতিফলন।
সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ নেমে এসেছে ২২.৪৮ শতাংশে। এক বছরে প্রায় ১.৫ শতাংশ পয়েন্ট পতন চার দশকের মধ্যে নজিরবিহীন। একই সময়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ, যা নতুন শিল্প স্থাপন ও উৎপাদন সম্প্রসারণে স্থবিরতার ইঙ্গিত দেয়।
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ নেমে এসেছে ৬.১০ শতাংশে দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। উচ্চ সুদহার, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা এবং করের চাপ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করেছে। অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প কার্যক্রম সংকুচিত বা বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
নিট এফডিআই কিছুটা বাড়লেও নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ নেমে এসেছে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো বিদেশি কোম্পানির মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের কারণে সামগ্রিক অঙ্ক বড় দেখালেও নতুন বিনিয়োগকারীর আগমন সীমিত। ফলে শিল্পায়ন ও রফতানি সক্ষমতায় প্রত্যাশিত গতি আসেনি।
এদিকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এ নেতৃত্ব পরিবর্তন ও বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন সত্ত্বেও নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ৫০ শতাংশের বেশি। সরকারের দাবি ‘অকার্যকর নিবন্ধন’ বাদ দেওয়ায় এ হ্রাস। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণপ্রবাহ, যন্ত্রপাতি আমদানি ও বিনিয়োগ হার সব সূচক একসঙ্গে নিম্নমুখী হওয়া সামগ্রিক আস্থাহীনতারই প্রমাণ।
আন্তর্জাতিক তুলনায়ও বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যেখানে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার এফডিআই পেয়েছে, সেখানে ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া অনেক এগিয়ে। এমনকি পাকিস্তান-ও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা, সুদহার নিয়ন্ত্রণ ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বিনিয়োগে আস্থা পুনর্গঠিত হয়নি। ফলে এই সময়কাল অর্থনীতিতে ‘সুযোগের জানালা’ না হয়ে পরিণত হয়েছে নীতিগত অচলাবস্থার সময়ে।

