নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ই ফেব্রুয়ারী, শনিবার
রাজনৈতিক বয়ানে দীর্ঘদিন ধরেই বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ খেটে খাওয়া, শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের দল। সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
২৪ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে দলটির মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কর্মসূচি সীমিত ছিল। অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা, হামলা ও পাল্টা-প্রতিক্রিয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমও সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে কয়েকজন দিনমজুর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা এটিকে তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আদর্শিক অবস্থানের প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্মসূচিটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং সীমিত পরিসরে আয়োজিত।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানান। তারা জননেত্রী শেখ হাসিনা এর প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের প্রতীকী কর্মসূচি দলীয় সমর্থকদের মনোভাব ও সাংগঠনিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদ্যমান বিভাজন ও উত্তেজনাপূর্ণ বাস্তবতারও প্রতিফলন।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সংঘটিত এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিভিন্ন মহলে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

