নির্বাচনে জিতেই সহিংস হয়ে উঠেছে বিএনপি : এক রাতেই শতাধিক স্থানে হামলা।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ | শনিবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পরপরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র বিরুদ্ধে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে একযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও লুটপাটের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুন্সিগঞ্জে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগমুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে বিএনপির এক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।নিহত জসিম উদ্দিন (৩০) আধারা ইউনিয়নের চর আবদুল্লাহ গ্রামের বাসিন্দা।

শুক্রবার বিকেলে বাড়িতে ঢুকে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।রংপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগরংপুরের হারাগাছে বিএনপি নেতাকর্মীরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের ধরে ধরে মারধর ও বাড়িঘর লুটপাট করছেন এমন অভিযোগ ওঠে।এ বিষয়ে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসন থেকে এনসিপি নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।হাতিয়া ও পঞ্চগড়েও সহিংসতার অভিযোগনোয়াখালীর হাতিয়ায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হান্নান মাসাউদ-এর নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির দফায় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া নির্বাচনে পরাজয়ের পর পঞ্চগড়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম-এর সমর্থকদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে সহিংসতার ভয়াবহ বর্ণনা দেন।এছাড়া নওগাঁ, রাজশাহী, কুড়িগ্রামসহ দেশের শতাধিক স্থানে রাতভর হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতার দাবি, দলটি নির্বাচনে জয়লাভের পরও সংযম বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, কিছু এলাকায় ‘অতিউৎসাহী’ কর্মীরা বেপরোয়া আচরণ করেছে এবং তাদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগবিহীন এবারের নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে জয় পেয়েছে ২০৯টি আসনে। জোটের শরিকরা পেয়েছে আরও ৩টি আসন। সব মিলিয়ে পরবর্তী জাতীয় সংসদে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২। এছাড়া আরও দুটি আসনে বিএনপির জয়লাভের সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *