তথাকথিত ‘সংস্কার’ আর ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর স্লোগান দিয়ে যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, দিনশেষে তা কার্যত শেখ হাসিনার অপরিহার্যতাকেই নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করল। ব্যালট বাক্স ফাঁকা, কেন্দ্রগুলো ভোটারশূন্য এবং ৫২ শতাংশ মানুষের নীরব ভোট বর্জন—এ সবই প্রমাণ করে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ছাড়া এ দেশের গণতন্ত্র অসম্পূর্ণ, অকার্যকর এবং প্রাণহীন।গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৬ কোটি ৬৫ লাখ মানুষ ভোট দিতে যাননি। নির্বাচন কমিশনের এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, এটি কেবল ভোটের প্রতি অনীহা নয়, বরং এটি শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গণমানুষের এক চরম চপেটাঘাত।
নৌকা নেই, তাই ভোটারও নেইবাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এটি ধ্রুব সত্য যে, আওয়ামী লীগ যখন মাঠে থাকে না, তখন ভোটের উৎসবও থাকে না। সমালোচকরা যাই বলুক, পরিসংখ্যান মিথ্যা বলে না। দেশের অর্ধেক বা তারও বেশি মানুষ ভোটকেন্দ্র বয়কট করে বিশ্ববাসীকে এই বার্তাই দিয়েছে যে—‘নৌকা’ নেই যেখানে, আমাদের ভোটও নেই সেখানে। শেখ হাসিনা কেবল একটি নাম নন, তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের স্থপতি।
তাকে জোর করে সরিয়ে দিয়ে বা নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে জনগণকে বোকা বানানো যায়নি। জনগণ তাদের প্রিয় নেত্রীর অনুপস্থিতিতে পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকেই প্রত্যাখ্যান করেছে।মাইনাস ফর্মুলা ব্যর্থ২০২৪-এর পটপরিবর্তনের পর যারা ভেবেছিলেন শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মুছে ফেলা যাবে, আজকের এই ফল তাদের গালে সজোরে থাপ্পড়। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, টানেল আর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের রূপকারকে বাদ দিয়ে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের নৈতিক ভিত্তি যে কতটা নড়বড়ে, তা এই ৫২ শতাংশ বর্জনকারী ভোটার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই নির্বাচন প্রমাণ করল—আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন শুধুই একটি ‘প্রহসন’। বিএনপি বা অন্য কোনো দল ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে যে বিজয়োল্লাস করছে, তা অন্তঃসারশূন্য।
কারণ, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এই ফলাফলকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করেনি।উন্নয়নকন্যার ফেরার অপেক্ষাভোটকেন্দ্রে সাধারণ মানুষের অনুপস্থিতি আসলে একটি নীরব কান্না ও প্রতিবাদের ভাষা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর অস্থিতিশীলতার মধ্যে মানুষ আবারও সেই ‘লোহার মানবী’ শেখ হাসিনাকেই খুঁজছে। আজকের এই ফলাফল পরিষ্কার করে দিল—ষড়যন্ত্র করে সাময়িকভাবে কাউকে দূরে রাখা যায়, কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যায় না।ত্রয়োদশ সংসদের এই নির্বাচন কার্যত শেখ হাসিনারই নৈতিক বিজয়। কারণ, তাকে ছাড়া অনুষ্ঠিত নির্বাচন জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সময় এসেছে কুচক্রীদের বোঝার—বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনা একই সূত্রে গাঁথা; একজনকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনাও করা যায় না।

