আগামীকালের নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কা করছে সরকার। যে কোনো ধরনের ক্রাইসিস পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ভোটের দিন আগামীকাল থেকে পরবর্তী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বড় ধরনের জনসমাগম এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক আহত হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত মেডিকেল টিম মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সব অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা, জরুরি বিভাগ এবং ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম পুরোপুরি সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি সিটি করপোরেশনে ছয়টি করে মেডিকেল টিম থাকবে। বিভাগীয় পর্যায়ে চারটি, জেলা পর্যায়ে তিনটি, উপজেলা পর্যায়ে দুটি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে অন্তত একটি করে মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনের সময় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল ও কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।আদেশে আরও বলা হয়েছে, হাসপাতাল প্রধানদের অবশ্যই কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কাউকে কোনো ছুটি দেওয়া যাবে না। জরুরি সেবা, ভর্তি রোগীর চিকিৎসা, ল্যাবরেটরি, ডায়ালাইসিস ইউনিট এবং সিটি স্ক্যান ও এমআরআইসহ সব ডায়াগনস্টিক সেবা এই সময়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে হবে।স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, অতীতের নির্বাচনগুলোতে জনাকীর্ণ এলাকায় হঠাৎ সহিংসতার ঘটনা ঘটার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনেক হাসপাতাল ইতোমধ্যে বিশেষ জরুরি দল বা কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিড় ও সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যেও যেন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন।এই সতর্কতা এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন পুলিশ সদর দফতর দেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭ হাজার ৫৫৬টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্র চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থা ও ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থাকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।এদিকে রাজধানী ঢাকায় দুই হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৫টি কেন্দ্রকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের মূল্যায়নে দেখা গেছে, ঢাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্রই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।দেশের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
হাসপাতালের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনকালীন সহিংসতার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি সেবা বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, হাসপাতালে একটি বিশেষ র্যাপিড অ্যাকশন টিম রয়েছে এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে সমন্বয় সভা আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, বড় কোনো দুর্ঘটনার রোগীরা সাধারণত শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলেই আসে এবং একসঙ্গে প্রায় ২০০ রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।তিনি আরও জানান, প্রাথমিক সাড়াদানের অংশ হিসেবে নির্বাচনের সময় প্রায় ৫০০ ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সার্বক্ষণিকভাবে প্রায় ২০০ চিকিৎসক হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করবেন।

