আওয়ামীলীগ বিহীন নির্বাচন: জামায়াত-বিএনপির অপকর্মে বিকল্পহীন ভোটাররা

রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর মাত্র কিছু সময় পরই ভোটগ্রহণে যাচ্ছে দেশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর অধ্যাপক ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রায় ১৭ মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন।এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচিত দিক হলো প্রতিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকা দেশের সর্বপ্রাচীন ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও অংশগ্রহণমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।শুধু আওয়ামী লীগ সমর্থকরাই নয়, দেশের সচেতন মহলের একটি বড় অংশও এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। অনেকের মতে, একটি বৃহৎ ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলকে ভোটের মাঠের বাইরে রাখা জনগণের প্রকৃত মতামত প্রকাশের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সরকারের দমন-পীড়নের দায়ে দলকে নিষিদ্ধ বা বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই অযৌক্তিক মনে করছেন।

তাঁদের যুক্তি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মূল্যায়ন ভোটের মাধ্যমেই হওয়া উচিত ছিল। জনগণ চাইলে ব্যালটের মাধ্যমেই দলটিকে প্রত্যাখ্যান করতে পারত, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্ত ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতো।অন্যদিকে, গত ১৭ মাসে বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দেশের একটি বড় অংশের ভোটার এই দুই দল থেকেও বিমুখ হয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি বহু ভোটারকে কার্যত বিকল্পহীন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।এছাড়া আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রতিবাদে দলটির ৪০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।

এতে ভোটার উপস্থিতি ও নির্বাচনের সার্বিক অংশগ্রহণ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।সব মিলিয়ে আগামীকালের নির্বাচনকে ঘিরে সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন- একটি প্রাচীন ও বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক হতে পারবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *