১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তাবিত গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার সীমা অতিক্রম করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (ভেনিস কমিশন, ওএসসিই) অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়।তাছাড়া বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ‘জুলাই সনদ’।
এতে ৮৪টি সংস্কারের কথা বলা হলেও সমালোচকদের মতে, এর মূল প্রস্তাবগুলো সংবিধানের চার মূলনীতি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বদলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূলনীতি থেকে বাদ দেওয়ার আশঙ্কা, ব্লাসফেমি আইন ও কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার পূর্বঘোষিত অবস্থান নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।গণভোটের দফাগুলোর মধ্যে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি থাকলেও বর্তমান নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার মাত্র ৪.২৪ শতাংশ যা প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হচ্ছে।
পাশাপাশি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও উচ্চকক্ষের সদস্য মনোনয়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কারণ এসব সদস্য সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নাও হতে পারেন।বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও কড়া সমালোচনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিচারপতিদের ওপর চাপ, পদত্যাগ ও দ্রুত নিয়োগ এই প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আরও বিতর্ক তৈরি করেছে ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার না হলে ‘অটো-পাস’ ব্যবস্থার প্রস্তাব, যা সরকারকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখার পথ খুলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা।সব মিলিয়ে সমালোচকদের দাবি, সরকার ‘হ্যাঁ’ প্রচারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে একতরফা সুবিধা নিচ্ছে এবং গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন ও ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা চলছে। এ প্রেক্ষিতে তারা গণভোট প্রতিহত ও নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছেন।

