বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনার নাম বারবার এসেছে পতন ও প্রত্যাবর্তনের গল্প হিসেবে। সময়ের ঘাত প্রতিঘাতে তাকে একাধিকবার রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবুও ইতিহাস বলছে প্রতিবারই তিনি ফিরে এসেছেন, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে।
বর্তমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে দেশের একটি বড় অংশ আবারও সেই ইতিহাসের দিকেই তাকিয়ে আছে। তাদের বিশ্বাস, অতীতের মতোই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অধ্যায় এখানেই শেষ নয়। বরং সময় ও পরিস্থিতি বদলে গেলে আবারও তিনি সক্রিয় ভূমিকায় ফিরবেন এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করছেন অনেকে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার রাজনীতির শক্তি কেবল ক্ষমতায় থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার নেতৃত্বের বড় বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘ অপেক্ষা, ধৈর্য এবং সময়কে নিজের পক্ষে নেওয়ার সক্ষমতা।
১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে দেশে ফেরা, ২০০১ সালের পর দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতি এবং ২০০৮ সালে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন সবই তার উদাহরণ।ঢাকা শহরের এক প্রবীণ রাজনীতি সচেতন নাগরিক বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে হিসাব করা যায় না। ইতিহাসই বলে দেয় তিনি থেমে থাকেন না।অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশও মনে করে, রাজনীতিতে স্থায়িত্ব ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রশ্নে শেখ হাসিনার ভূমিকা এখনও আলোচনার কেন্দ্রে।
তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যত জটিলই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত ইতিহাসই সিদ্ধান্ত দেয় কারা টিকে থাকে।তবে সমালোচকরা বলছেন, প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নের পাশাপাশি রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি এই বিষয়গুলো নিয়েও খোলামেলা আলোচনা জরুরি। কারণ শুধু ফিরে আসা নয়, কিভাবে ফিরে আসা হচ্ছে এবং কী পরিবর্তন আসছে সেটাই জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার নাম মানেই একটি চলমান অধ্যায় যার শেষ এখনও লেখা হয়নি। ইতিহাস যেমন দেখিয়েছে তার প্রত্যাবর্তনের ক্ষমতা, তেমনি বর্তমান সময়ও সেই ইতিহাসের দিকেই নতুন করে তাকিয়ে আছে।

