Infobangla ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৯
লক্ষ্মীপুরে একটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছয়টি ভোটের সিল উদ্ধারের ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত জামায়াত নেতার সংশ্লিষ্টতা সামনে আসার পর বিরোধী রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— নির্বাচনে কারা প্রকৃত সুবিধাভোগী হতে চাইছে?
পুলিশ জানায়, লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের পুরাতন আদালত সড়কে অবস্থিত ‘মারইয়াম প্রিন্টার্স’ নামের একটি প্রেসে অবৈধভাবে ভোটের সিল তৈরি করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ১৬ ঘরবিশিষ্ট ছয়টি ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় প্রেস মালিক মো. সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, জামায়াত নেতা মো. শরীফ হোসেন ওরফে সৌরভ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গত ৩০ জানুয়ারি এসব সিল তৈরির নির্দেশ দেন। যদিও সৌরভ বর্তমানে পলাতক, তবে ঘটনার পর জেলা জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, নির্বাচনের মাঠে জামায়াত নিজেদের কৌশল আড়াল রেখে বিএনপিকে সামনে রেখে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, ভোটের সিল তৈরির মতো স্পর্শকাতর কর্মকাণ্ড পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি বিরোধী শিবিরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে।
এদিকে বিএনপি দাবি করেছে, এই সিল কাণ্ডে জামায়াতের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“ভোটের সিল তৈরি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন প্রভাবিত করতে চাইছে।”
অন্যদিকে জামায়াত ইসলামী পাল্টা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, আটক সোহেল তাদের কর্মী নন এবং সৌরভের কর্মকাণ্ড ছিল ‘দায়িত্বহীন ব্যক্তিগত উদ্যোগ’। তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— ভোটের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এমন উদ্যোগ কি আদৌ ব্যক্তিগত হতে পারে?
Infobangla–এর সঙ্গে কথা বলা একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ভোটের সিল উদ্ধারের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, নির্বাচনী রাজনীতিতে আড়ালের কৌশল, ভেতরের সমঝোতা এবং দায় এড়ানোর রাজনীতি এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর ফলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়লেও প্রকৃত লাভবান কারা হচ্ছেন—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

