অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকাল শেষ হতে চললেও প্রকাশ হয়নি উপদেষ্টাদের সম্পদের তথ্য।

“বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। আমাদের সকল উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন,” ক্ষমতা গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে বলেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

এরপর প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেছে, শেষ হতে চলেছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকাল। কিন্তু প্রকাশ করা হয়নি উপদেষ্টাদের কারো সম্পদের তথ্য। এই নিয়ে বিবিসি বাংলা একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনামলে যেভাবে একের পর এক দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেটির অবসান ঘটবে বলেই প্রত্যাশা করেছিলেন অনেকে।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের প্রত্যাশা জন্মেছিল যে, অধ্যাপক ইউনূসের সরকার বাংলাদেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটতে দেখা যায়নি। উল্টো, একাধিক উপদেষ্টা, তাদের পরিবারের সদস্য এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নানান অভিযোগ উঠতে দেখা গেছে।

“এটা খুবই দুঃখজনক। যারা জবাবদিহিতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় বসেছিলেন, তাদের কাছ থেকে এ ধরনের অস্বচ্ছ কর্মকাণ্ড দেশবাসী মোটেও প্রত্যাশা করেনি,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে’র (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

স্বচ্ছতার নজির স্থাপনে অন্তর্বর্তী সরকারের এই ব্যর্থতা আগামীর বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

“এরকম একটি অরাজনৈতিক সরকার, যেখানে বিশিষ্টজনেরা সরকারের ভেতরে রয়েছেন, তারা যখন জনগণের কাছের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও নিজেদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ না করে আগামী দিনের রাজনৈতিক সরকারের জন্য একটা খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি করলেন। আগামীর মন্ত্রি-আমলাদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ না করার একটা উছিলা তৈরির সুযোগ করে দিয়ে গেলেন, যা আরও হতাশাজনক,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *