ঢাকায় গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রিকশায় যাত্রাকালে হয়রানির শিকার হয়েছেন মুন, যিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়—ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিজের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
মুন তার পোস্টে জানান, ঘটনার দিন তিনি একটি রিকশায় করে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি শাল ও লম্বা কুর্তি পরিহিত ছিলেন এবং শরীর সম্পূর্ণভাবে ঢাকা ছিল। যাত্রাপথে হঠাৎ রিকশাচালক রিকশা থামিয়ে পেছনে তাকিয়ে তাকে মাথা ঢাকতে বলেন। এরপর কোনো অনুমতি ছাড়াই শুরু করেন আপত্তিকর ও ভীতিকর মন্তব্য।
রিকশাচালক এক পর্যায়ে বলতে থাকেন—
“আর কতোদিন এমনভাবে চলেন দেখুম না, মাইয়া মানুষ এখন বাড়িতে থাকবো, দুনিয়ায় শান্তি আইবো।”
এ ধরনের বক্তব্যে মুন চরমভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
মুন লেখেন, চালকের আচরণ কেবল মন্তব্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তার কণ্ঠস্বর ও ভঙ্গিতে স্পষ্ট হুমকির আভাস ছিল। পরিস্থিতি অসহনীয় মনে হওয়ায় তিনি রিকশা থামাতে বললে চালক রূঢ় ব্যবহার করেন এবং জোরপূর্বক দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে মুন প্রতিবাদ বা আইনি সহায়তা নিতে পারেননি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন,
“এই অভিজ্ঞতা আমাকে প্রচণ্ডভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমি এখনও আতঙ্কে আছি। একজন নারী হিসেবে রাস্তায় বের হওয়া এখন নিরাপদ মনে হচ্ছে না।”
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বহু নারী নিজেদের একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। অনেকেই বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ‘নসিহত’-এর নামে নারীদের পোশাক ও চলাফেরা নিয়ে প্রকাশ্যে হয়রানি বেড়ে গেছে।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে বাংলাদেশে উগ্রবাদ বেড়েই চেলেছে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এক ধরনের উগ্র সামাজিক মানসিকতার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে নারীদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই মানসিকতা শুধু অনলাইনেই নয়, বরং রিকশাচালক, পরিবহনশ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের আচরণেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
একজন নারী অধিকারকর্মী Infobangla-কে বলেন,এটা শুধু একজন নারীর অভিজ্ঞতা নয়। এটা সমাজের ভেতরে বেড়ে ওঠা এক ধরনের বিপজ্জনক চর্চার প্রতিফলন। আজ কথা, কাল হয়তো আরও বড় সহিংসতা।”

