কারাগারে থাকা অবস্থায় স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে হারালেও মুক্তি মেলেনি। পরে জামিন মিললেও সেই খবরে স্বস্তি নেই জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের পরিবারে। বরং প্রশ্ন উঠেছে—এখন এই জামিন দিয়ে কী হবে?
বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি। স্ত্রী ও সন্তান জীবিত থাকা অবস্থায় একাধিকবার জামিনের আবেদন করা হলেও মুক্তি পাননি তিনি। কিন্তু স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পর হাইকোর্ট থেকে জামিনের আদেশ আসে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার বেঞ্চ সাদ্দামের জামিন মঞ্জুর করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।
এর আগে, গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় শেষবারের মতো অংশ নিতে চাইলেও প্যারোলে মুক্তি পাননি সাদ্দাম, যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম বলেন,
“ছেলে-বউ বেঁচে থাকতে জামিন দেয় নাই। এখন জামিন দিয়ে কী হবে? ছেলে বাড়ি এসে তো শুধু কবরই দেখবে। তবুও রাষ্ট্র জামিন দিয়েছে—এটুকুই সান্ত্বনা।”
তিনি আরও বলেন, আগেও কয়েকবার জামিন হলেও বিভিন্ন মামলার কারণে তার ছেলে মুক্তি পাননি। ফলে বর্তমান জামিন নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি।
সাদ্দামের শ্বশুর রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন,
“জামিন পাওয়াটা ভালো, কিন্তু স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া অমানবিক ছিল। এর বিচার চাই।”
এদিকে সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন জানান, প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি। জামিন আদেশের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও পরিবারের কষ্ট লাঘব হয়নি বলে জানান স্বজনরা।
পরিবারের দাবি, একের পর এক মামলায় কারাবন্দি রেখে সাদ্দামকে যে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ফেলা হয়েছে, তার দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে এখন জামিনের খবরে তাদের চোখে আনন্দ নয়—শুধু শূন্যতা আর প্রশ্ন।

