ছাত্রলীগ করার কারনে মিথ্যা মামলায় ১৫ মাস ধরে কারাবন্দী উর্মি, সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন এক মায়ের জীবন

ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মিথ্যা মামলায় টানা ১৫ মাস ধরে কারাবন্দী আছেন খাদিজা আখতার উর্মি। দীর্ঘ এই সময়ে জন্ম নেওয়া তার কন্যা এখনও মায়ের মুখ দেখেনি। একইভাবে পিতার স্নেহ থেকেও বঞ্চিত শিশুটি।

স্বজনদের দাবি, উর্মি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই মাসের আলোচিত ঘটনার সময় পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় সম্পূর্ণ বিশ্রামে ছিলেন। সে সময় কোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। এরপরও তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

খাদিজা আখতার উর্মি তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতালে ছোটাছুটির মধ্যেই উর্মিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

কারাবন্দী অবস্থায় উর্মির সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগে নানা বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়া এবং নিয়মিত মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার মা দীর্ঘ এই সময়ে একবারও মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

পরিবার ও সহযোদ্ধাদের ভাষ্য, উর্মির বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এই কারাবাসকে নিছক হয়রানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

এ ঘটনায় মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন মহল ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, একজন মা ও সন্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই বিচ্ছেদ সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *