ডেস্ক রিপোর্ট | ইনফোবাংলা
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
এর আগে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি ও বিচারিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) তিনি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠান এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে পেন্ডেল করে বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করেন রুমিন ফারহানা, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পরে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশটি ভেঙে দেয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযানে বাধা দেওয়ার সময় রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনসহ আঙুল উঁচিয়ে হুমকি দেন। তার সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়াসহ অন্যরা মারমুখী আচরণ করলে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বিচারিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর লিংকও অভিযোগপত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রুমিন ফারহানা ৪০০–৫০০ মানুষের উপস্থিতিতে বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে জনসভায় রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। জনসভা বন্ধের নির্দেশ দিলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। তার কর্মীরাও এ সময় মারমুখী আচরণ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদান না করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জড়িতদের উদ্দেশে ‘৫ আগস্টের কথা মনে রাখার’ আহ্বান জানিয়েছেন রুমিন ফারহানা। রবিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “আশা করি প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। কাউকে ডান চোখে, কাউকে বাম চোখে দেখবেন না। নিরপেক্ষতা না থাকলে সারা বাংলাদেশে যেমন ৫ আগস্ট হয়েছিল, তেমনি যে কোনো আসনেই ৫ আগস্ট ঘটতে পারে।”
তবে ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সভা থেকে প্রশাসনের উদ্দেশে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে আমি উদাহরণ দিয়েছি। সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আশা করি প্রশাসন কারও পক্ষ নেবে না।”

