নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের শিকার গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা আগামী চক্রবর্তী ও ছোট ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধারের পর ঘটনার সময়কাল ও রহস্য নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর প্রশ্ন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশট এবং অনুসন্ধানী তথ্যে দেখা যায়, শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর কন্যা আগামী চক্রবর্তীর ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর এক বান্ধবীকে ইনবক্সে মেসেজ পাঠানো হয়। বার্তায় তিনি লেখেন—বাড়িতে সারা রাত বিদ্যুৎ ছিল না এবং সবার বাসায় আলো থাকলেও শুধু তাঁদের বাসাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ নষ্ট হয়েছিল, যার কারণে তিনি সারা রাত জেগেছিলেন। এই বার্তার সূত্র ধরে এলাকায় তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে যে, হত্যাকাণ্ডের ঠিক কতক্ষণ আগে বা কত ঘটনার মুখোমুখি হয়ে পরিবারটি অবস্থান করছিল এবং শুক্রবার ভোরেও আগামী চক্রবর্তী জীবিত ছিলেন কি না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই স্বজনরা এই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। শনিবার রাতে স্বজন ও পুলিশ সদস্যরা গিয়ে গৃহের দরজা ভেঙে চারজনের লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরিবারের সদস্যদের বিদ্যুৎহীন ঘরে অবরুদ্ধ করে রেখে পরিকল্পিতভাবে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খোদ নিজ বাসভবনে এমন বর্বরোচিত ও রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে পুরো রংপুরজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া ও চরম আতঙ্ক। নাগরিক সমাজ এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
