নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
রাজধানীর ফুলবাড়িয়া জাকের সুপার মার্কেট সংশ্লিষ্ট মামলার রায় প্রভাবিত করা এবং শুনানি বিলম্বিত করার অভিযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের চুক্তির অভিযোগ এনে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মার্কেটের দোকান মালিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক রিভিউ পিটিশনকে কেন্দ্র করে এ অনৈতিক আর্থিক সমঝোতার ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগকারী মো. ফিরোজপুর রহমান ফিরোজ, যিনি ফুলবাড়িয়া জাকের সুপার মার্কেটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৭ মে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বরাবর তিনি এ আবেদন করেন। আবেদনের অনুলিপি প্রধান বিচারপতির কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজল পদ লাভের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন বলে উল্লেখ করে তা আদায়ের উদ্দেশ্যে মার্কেট-সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের সঙ্গে ৫০ কোটি টাকার মৌখিক চুক্তিতে আবদ্ধ হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই চুক্তির অংশ হিসেবে ‘সিনিয়র কাউন্সিলর’ হিসেবে সার্টিফাইড হওয়ার নামে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম গ্রহণ করা হয়েছে।
আবেদনকারী দাবি করেন, ফুলবাড়িয়া জাকের সুপার মার্কেটের ৫৪৩ জন দোকান মালিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট রিভিউ পিটিশনগুলোর শুনানির ক্রম ও অগ্রগতি প্রভাবিত করতে সুপ্রিম কোর্টে নিজের অবস্থান ও প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট তিনটি রিভিউ পিটিশন—৩৫১/২০২৬, ৩৫২/২০২৬ ও ৩৫৩/২০২৬—ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখা কিংবা পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চুক্তির বাকি অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে আবেদনকারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ‘পালিত মাস্তান’ ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগের কথাও লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
আবেদনে অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‘ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে দ্রুত পদ থেকে অপসারণ এবং অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আবেদনটি পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, উত্থাপিত অভিযোগগুলো বর্তমানে অভিযোগকারীর দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের পরই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
