নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
দেশে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার মাত্রা আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে দেশজুড়ে ২৫৯ জন নারী ও মেয়েশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
এর মধ্যে ৫৯টি শিশুসহ ৭২ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং বিভিন্ন কারণে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন আরও ৪৬ জন নারী ও শিশু। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল উপপরিষদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদনটি সংকলিত করেছে সংগঠনটি।
মহিলা পরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে নির্যাতনের শিকার ২৫৯ জনের মধ্যে ১১৪ জন নারী এবং ১৪৫ জন মেয়েশিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও ৫৯ জন মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮টি শিশুসহ ১৫ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের (গণধর্ষণ) শিকার হয়েছেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩টি শিশুসহ ৪ জনকে এবং ধর্ষণের মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে ৩টি মেয়েশিশু। এছাড়া গত এক মাসে ২২টি শিশুসহ ২৬ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের যৌন সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। মে মাসে ১৭টি শিশুসহ ২২ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩টি শিশুসহ ১৫ জন যৌন নিপীড়ন এবং ২টি শিশু বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছে। উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে ২ জন মেয়েশিশু আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এছাড়া ৩ জন নারী ও শিশু সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত মাসে বিভিন্ন কারণে ১২টি মেয়েশিশু ও ৩৪ জন নারীসহ মোট ৪৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ২ জনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬টি শিশু ও ১৬ জন নারীসহ ২২ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১৬টি শিশুসহ ২৬ জন অপহরণের শিকার হয়েছে। এছাড়া মে মাসে অ্যাসিডদগ্ধ, যৌতুকের কারণে নির্যাতন ও হত্যা, পারিবারিক সহিংসতা, গৃহকর্মী নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যার মতো আরও বেশ কিছু লোমহর্ষক ঘটনা জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে বলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
