পাবনা প্রতিনিধি:
একই দিনে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড! রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে পাবনা শহরের রাজপথ। সোমবার (৮ জুন) বিকেল ও সন্ধ্যারাত জুড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে যেভাবে পৃথক দুটি খুনের ঘটনা ঘটেছে, তাতে পুরো শহরজুড়ে এখন চরম আতঙ্ক আর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চোখের পলকে দুটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় নগরবাসীর মনে দানা বেঁধেছে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা।
ভয়াবহতার শুরুটা হয় বিকেলের দিকে। শহরের ব্যস্ততম টার্মিনাল এলাকায় আচমকাই চিৎকার আর আর্তনাদ। স্থানীয়রা কিছু বুঝে ওঠার আগেই মনিরুল (২১) নামের এক তরুণকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে ঘাতকেরা। রক্তে ভেসে যায় চারপাশ।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলাকারী এক যুবকের বোনের সাথে মনিরুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই পুরনো পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরেই ওত পেতে থাকা হামলাকারীরা প্রকাশ্যে মনিরুলকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় মনিরুলকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঘটনার পরপরই তৎপরতা দেখিয়ে পুলিশ খুনিদের তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো টার্মিনাল এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অপরদিকে টার্মিনালের খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহর কাঁপিয়ে ওঠে গুলির শব্দে! এবার ঘটনাস্থল পাবনা শহরের জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার ঠিক সামনে।
মাদ্রাসার স্টাফ হোসেন আলী (৫৩) তখন মাত্র কাজ শেষ করে বের হচ্ছিলেন, সাথে ছিল তার মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলেও। ঠিক তখনই একটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন হেলমেটধারী দুর্বৃত্ত এসে গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হোসেন আলীকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোঁড়ে তারা।
বুকের তাজা রক্তে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হোসেন আলী। বাবার এমন নৃশংস পরিণতি চোখের সামনে দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় ছেলে। চোখের পলকে ঘাতকেরা মোটরসাইকেল ছুটিয়ে অন্ধকার মিশে যায়। পরে স্থানীয়রা চিৎকার করে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হোসেন আলী পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
একই দিনে, মাত্র ২ ঘণ্টার ব্যবধানে এমন দুটি চাঞ্চল্যকর ও দুঃসাহসিক হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ পাবনাবাসী। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—”আমরা কি তবে নিজের শহরেও নিরাপদ নই?” ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত স্থানীয়রা অবিলম্বে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দ্রুত সব অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পাবনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, দুটি হত্যাকাণ্ডকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রথম ঘটনার আসামিদের ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় ঘটনার পেছনের মূল কারণ উদঘাটনসহ ঘাতকদের শনাক্ত করতে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
